চকরিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে মাতামুহুরী নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী শহর রক্ষাবাঁধ এবং মাতামুহুরী আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের পাশে স্লুইসগেট নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় মাতামুহুরী আদর্শ শিক্ষা নিকেতন এলাকায় মাতামুহুরী নদীর তীরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
ইসহাক আহমদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনের সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন চকরিয়া পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র শহিদুল ইসলাম ফোরকান, চকরিয়া পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা কুতুব উদ্দিন হেলালী, মাতামুহুরী আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের সভাপতি আহমদ রেজা, চকরিয়া মিশকাতুল মডেল দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মোহাম্মদ শওকত আলম, প্রবীণ সাংবাদিক আবদুল মতিন চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সেলিম রেজা প্রমুখ।
আয়োজন সংগঠন ইসহাক আহমদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল করিম জিয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন চকরিয়া মিশকাতুল মডেল দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওলানা মুহাম্মদ আবুল কালাম।
মানববন্ধনে বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, চকরিয়া পৌরসভার শহর কেন্দ্রিক জনগুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড হলো ৮নং ওয়ার্ড। রাক্ষুসে মাতামুহুরী নদীর তীর ঘেঁষে এই ওয়ার্ডের অবস্থান। সেই সুবাধে এই জনপদের মানুষগুলোকে প্রতিনিয়ত দিন কাটাতে হয় আতঙ্ক আর উদ্বেগ উৎকণ্ঠায়। গেলো সপ্তাহব্যাপী প্রবল বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর নাব্যতা ফিরে পায়। প্রবাহমান নদীর করাল গ্রাসে ভাঙনের কবলে পড়ে একটি বহুতল ভবনসহ বিলীন হয়ে গেছে সেমি পাকা ৮/১০টি বসতঘর। এভাবেই প্রতিনিয়ত তীরবর্তী এলাকাবাসীকে থাকতে হয় হুমকির মুখে।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে আরও বলেন, এ নদীর তীর ঘেঁষে রয়েছে চকরিয়া মজিদিয়া দারুচ্ছুন্নাহ পৌর আলিম মাদ্রাসাসহ ৭/৮টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রয়েছে মসজিদ মকতবসহ ধর্মীয় উপাসনালয়। সবমিলিয়ে টেকসই শহর রক্ষাবাঁধ ও স্লুইস গেট নির্মাণ জরুরী হয়ে পড়েছে। অনতিবিলম্বে টেকসই শহর রক্ষাবাঁধ ও স্লুইস গেট নির্মাণ করা না হলে বিলীন হয়ে যেতে পারে পারে এসব স্থাপনা। মানববন্ধনে বক্তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ চকরিয়া-পেকুয়ার কৃতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, টেকসই শহর রক্ষাবাঁধ ও স্লুইস গেট নির্মাণের দাবিকে আন্তরিকভাবে সুদৃষ্টির সঙ্গে উদ্যোগ গ্রহণ করুন। অন্যথায় বড়ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে চকরিয়া পৌরবাসী।