বাংলাদেশ সরকার যখন পুরাতন খাল উদ্ধার এবং নতুন খাল খননের কাজে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়েই মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র গোয়ালবাড়ির খালটি টঙ্গীবাড়ী বাজারের ময়লার স্তূপে ভরাট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
২৫ জুলাই (শনিবার) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ পরিচর্যার অভাবে গোয়ালবাড়ির খালটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় কিছু অসচেতন মানুষ প্রতিদিন খালে গৃহস্থালির বর্জ্য, প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য আবর্জনা ফেলায় খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায় এবং পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খালটি একসময় পরিষ্কার ছিল এবং বর্ষার পানি সহজেই নিষ্কাশন হতো। কিন্তু বর্তমানে ময়লার স্তূপ জমে খালটি প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এছাড়া জমে থাকা নোংরা পানিতে মশার বংশবৃদ্ধি বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
টঙ্গীবাড়ী শহরের টুটুল নামের এক ব্যবসায়ী জানান, টঙ্গীবাড়ী বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ময়লাগুলো খালে ফেলার কারণেই খালটি প্রায় ভরাট হতে চলেছে। আরেকজন ব্যবসায়ী জানান, খালটি যদি পুরোপুরি ভরাট হয়ে যায়, তবে শহর ও বাজারের পানি নিষ্কাশনের আর কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। সামান্য বৃষ্টিতেই টঙ্গীবাড়ী বাজার তলিয়ে যেতে পারে। তাই অবিলম্বে খালটি পুনরুদ্ধার করা জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত খালটি পরিষ্কার করে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। একই সঙ্গে খালে ময়লা ফেলা বন্ধে কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনারও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
পরিবেশ রক্ষায় খাল পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা সবার দায়িত্ব—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ধরনের স্লোগান দিলেও গোয়ালবাড়ির খালের ক্ষেত্রে তার উল্টো চিত্রই দেখা গেছে। তবে সাধারণ ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল গোয়ালবাড়ির খালকে আগের পরিচ্ছন্ন অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, "বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি পরিদর্শক পাঠিয়ে সরেজমিনে তথ্য নিয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওয়াজেদ ওয়াসীফ বলেন, "এ ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নেই।"