জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, "গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা। বাংলাদেশের মানুষ এই প্রতারণা মেনে নেবে না। ইতিহাস সাক্ষী, জনগণের রায় অমান্য করে এবং ক্ষোভের মুখে কোনো সরকারই টিকতে পারেনি।"
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জাতীয় ছাত্র শক্তির আয়োজিত ‘বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, "ক্ষমতা হারানোর আগে আওয়ামী লীগ ভেবেছিল তারা দীর্ঘ সময় টিকে থাকবে, কিন্তু পারেনি। ৯০-এর পরেও বিএনপি সরকার যখন একতরফা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তীব্র আন্দোলনের মুখেই তাদেরকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান যুক্ত করতে হয়েছে। বর্তমান সরকারকেও এই ইতিহাসের শিক্ষা মাথায় রাখতে হবে। সরকার যদি জনগণের রায় বাস্তবায়ন না করে, তবে জনগণই যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে। আমরা জনগণকে সাথে নিয়েই সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করব।"
সংগঠনটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দীনের সঞ্চালনায় বটতলায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচি শেষে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আখতার হোসেন দাবি করেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমঝোতা হয়েছিল। ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে তাকে রাষ্ট্রপতির পদে রাখা হয় এবং এখন তাকে ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, "গণহত্যার সময় কমান্ড রেসপনসিবিলিটির জায়গা থেকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা ছিল। তিনি শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন এবং লন্ডনে গিয়েও তার সাথে যোগাযোগ রেখেছেন। পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ দেখিয়ে তাকে আর আইনি সুরক্ষার সুযোগ নেই। এইচ এম এরশাদ পদ ছাড়ার ৬ দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। একইভাবে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকেও গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রীয় সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করতে হবে। এছাড়া ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলম গ্রুপকে দেওয়া, বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৫ আগস্টের পদত্যাগপত্র নিয়ে মিথ্যাচারের জন্যও তাকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তিনি।"