ঢাকা জেলায় সাড়ে ৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, আগামী ২৮ জুন সারাদেশের ন্যায় ঢাকা জেলাতেও জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬-১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের এক লাখ আইইউ এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের দুই লাখ আইইউ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ক্যাম্পেইনটি সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত চলবে। ভাসমান জনগোষ্ঠীর শিশুদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ও খেয়াঘাট এলাকায় এসব অতিরিক্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ৩,৪৮৬ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ২৯২ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন। এ বিষয়ে কোনো ধরণের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। জাতীয়ভাবে এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬-৫৯ মাস বয়সী প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভিটামিন ‘এ’ শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, রাতকানা রোগ ও অন্যান্য দৃষ্টিজনিত সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং চোখের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখে। এছাড়া ভিটামিন ‘এ’ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণের ফলে হাম, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগজনিত জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি হ্রাস পায়।
ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ ফরিদা খানম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মোঃ আবদুল বাতেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ সরকার ফারহানা কবীর ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসারবৃন্দ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ। সরকারের এই কাজে আমাদের সকলের সহযোগিতা করা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তিনি বলেন, কোন শিশু অপুষ্টিজনিত কারণে মারা যাক এটা আমরা কামনা করি না। পৃথিবীতে শিশুরা সুস্থ থাক, এটাই চাই। ক্যাম্পেইনের সফলতা কামনা করে পুলিশের এই কর্মকর্তা প্রচারণার অংশে তার আওতাধীন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান তিনি।
সিভিল সার্জন জানান, আগামী ২৮শে জুন সারাদেশের ন্যায় ঢাকা জেলাতেও জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬-১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের (১,০০,০০০ আইইউ) এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের (২,০০,০০০ আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ঢাকা জেলায় ৬-১১ মাস বয়সী ৭৫ হাজার ১১৭ জন এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৮২ জন শিশুসহ মোট ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে ঢাকা জেলায় মোট ১,৭৪৩টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১,৬১৮টি আউটরিচ কেন্দ্র এবং ১২৫টি অতিরিক্ত কেন্দ্র রয়েছে। ভাসমান জনগোষ্ঠীর শিশুদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ও খেয়াঘাট এলাকায় এসব অতিরিক্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ৩,৪৮৬ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ২৯২ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন। জনগণকে অবহিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে ক্যাম্পেইনের পূর্বে মাইকিং করা হবে। পাশাপাশি মসজিদ, মন্দির এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ক্যাম্পেইন সংক্রান্ত প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সরকার কর্তৃক সরবরাহকৃত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষাগারে গুণগত মান যাচাই করা হয়েছে এবং এটি শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান সিভিল সার্জন।
সরকার কর্তৃক সরবরাহকৃত ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষাগারে গুণগত মান যাচাই করা হয়েছে এবং এটি শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। এ বিষয়ে কোনো ধরণের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। জাতীয়ভাবে এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬-৫৯ মাস বয়সী প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভিটামিন 'এ' শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, রাতকানা রোগ ও অন্যান্য দৃষ্টিজনিত সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং চোখের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখে। এছাড়া ভিটামিন 'এ' শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভিটামিন 'এ' গ্রহণের ফলে হাম, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগজনিত জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি হ্রাস পায়। এটি ত্বক, শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে এবং অপুষ্টিজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ খাদ্যের মধ্যে রয়েছে- কলিজা (গরু, খাসি, মুরগী), মাছের তেল, দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য, ডিমের কুসুম, মাখন, পনির, গাজর, পাকা পেঁপে, পাকা আম, লাল ও হলুদ রংয়ের ফলমূল, মিষ্টিকুমড়া, লাল শাক, পালং শাক, কলমি শাক এবং অন্যান্য গাড় সবুজ শাকসবজি।