জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, যুবসমাজ দেশের মূল্যবান সম্পদ। যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্যে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি নির্ভরশীল। যুবসমাজের মেধা, সৃজনশীলতা, সাহস ও প্রতিভাকে কেন্দ্র করেই জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হয়। ফলে যে কোনো পরিস্থিতিতে যুব সমাজকে সাহসিকতা, হিকমত ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলে দেশ, জাতি ও সমাজ উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, দেশের কোটিরও বেশী যুবক বেকার। মাদক ও জুয়ার ভয়বহতায় যুব সমাজের নৈতিক অবক্ষয় গঠলেও সরকারিভাবে তেমন কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এমনকি দেশের কারাগারগুলোও মাদকের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। জামায়াত দেশের বিশাল যুব সমাজকে আদর্শবান সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। ইসলামী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত বিশাল যুবসমাজকে আল্লাহর সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে হবে। যুবসমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সুখি, সমৃদ্ধ, ইনসাফপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব। আজকের যুবসমাজই জাতির আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। যুগে যুগে যুবকরাই ইতিহাস সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের প্রচেষ্টায় রাতারাতি গতিধারাও পরিবর্তন হয়ে যায়।
তিনি গতকাল শনিবার বিকেলে সিলেট জেলা জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে নগরীর নয়াসড়কস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। সিলেট জেলা জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি সাবেক দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমেদর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি নাজমুল হাসান শিকদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। দারসুল কুরআন পেশ করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান।
বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান ও হাফিজ আনওয়ার হোসাইন খান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সাবেক জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ও মাওলানা মাসুক আহমদ, জেলা জামায়াত নেতা সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, জেলা যুব বিভাগের সহ সভাপতি সায়ফুল্লাহ আল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি মারুফ আহমদ, কানাইঘাট উপজেলা সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, জকিগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আবিদুর রহমান, বিয়ানীবাজার উপজেলা সভাপতি শফি আহমদ মুন্না, গোলাপগঞ্জ উপজেলা সভাপতি কবির আহমদ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সভাপতি আব্দুর রাহমান সায়মন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সভাপতি হুমায়ুন আহমদ, বালাগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মারুফ আহমদ লিয়াকত, ওসমানী নগর উপজেলা সভাপতি সুলতান আহমদ বিশ্বনাথ উপজেলা সভাপতি জয়নাল আবেদীন, কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা সভাপতি ইকবাল আহমদ , গোয়াইনঘাট উপজেলা সেক্রেটারি ছাদেকুর রহমান , জৈন্তাপুর উপজেলা সভাপতি নাজিম আহমদ, কানাইঘাট পৌরসভা সভাপতি শামিম আহমদ, বিয়ানীবাজার পৌরসভা সভাপতি রাসেল আহমদ,গোলাপগঞ্জ পৌরসভা সভাপতি ফয়ছল আহমদ ও বিশ্বনাথ পৌরসভা আবু সাঈদ প্রমূখ।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশ ও জাতি এক গভীর ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতি একটি নতুন বাংলাদেশ আশা করেছিল। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার ৩ মাসের মাথায় আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের পথেই হাঁটছে। তারা নগ্ন দলীয়করণের মাধ্যমে দেশকে একদলীয় শাসনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যোগ্যতা বাদ দিয়ে দলীয় আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেয়ার ফলে রাষ্ট্রযন্ত্রে মেধাবীর পরিবর্তে দলকানারা দায়িত্ব পাচ্ছে। এতে দেশের অবস্থা দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় দেশ ও জাতির সত্যিকার মুক্তির জন্য যুবকদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাতে হবে। অন্যথায় আমাদের মুক্তি মিলবে না। পৃথিবীর ইতিহাস যুবসমাজের হাত ধরেই নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশের যত বড় বড় অর্জন সেগুলোও যুবসমাজের পরিশ্রমের ফসল। হাজী শরীয়তুল্লাহ, শহীদ তিতুমিরের মতো প্রাণচঞ্চল যুবকদের হাতেই এসেছে আমাদের বড় বড় অর্জন। তাই জাতির এই ক্রান্তিকালে যুবসমাজকে ঘরে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই বরং সত্যের পতাকা উড্ডীন ও আমাদের কাক্সিক্ষত স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য নতুন করে শপথ গ্রহণ করতে হবে।