দৈনিক কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন এর করা সংবাদ কে ‘সিন্ডিকেটেড সংবাদ’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল রোববার বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতি দেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সুনাম ও ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করার হীন ও হীন উদ্দেশ্যে দৈনিক কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন ‘সিন্ডিকেটেড সংবাদ’ পরিবেশন করছে। এহেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও যোগসাজশপূর্ণ সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অর্জিত সুনাম ও সুখ্যাতি বিনষ্ট করা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি নিয়মতান্ত্রিক, সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক ভাবধারার ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন। জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জনকল্যাণমুখী নানাবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে একটি মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বহুমুখী অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশের প্রতিটি জাতীয় সংকটময় মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীগণ দুর্গতদের পাশে থাকার যথাসাধ্য চেষ্টা করেন।”
এডভোকেট জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক ও ঐতিহাসিক ভূমিকা সর্বজনবিদিত। জাতীয় সংসদের প্রতিটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব ছিল। জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্যবৃন্দ সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেশবাসীর অকুণ্ঠ প্রশংসা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। এমনকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রতিনিধিদের কৃতিত্বপূর্ণ ও জনবান্ধব কর্মকাণ্ড জনমানসে গভীর আস্থা ও বিশ্বাসের সঞ্চার করেছে। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুইজন মন্ত্রী অত্যন্ত দক্ষতা ও স্বচ্ছতার সাথে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পরিচালনা করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। চারদিকে দুর্নীতির বেড়াজালে আবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বিরুদ্ধে এক টাকার দুর্নীতি প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে কারা দেশে ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করেছিল, কারা পদলেহন ও দালালি করে জুলুমের রাজতক্ত সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিল এবং কারা নির্লজ্জ তোষামোদের মাধ্যমে দেশের সমস্ত সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমুহকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল, তা দেশবাসীর স্মৃতিতে অত্যন্ত জাজ্বল্যমান। অতএব, এই জাতীয় অসত্য, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যমূলক ‘সিন্ডিকেটেড সংবাদ’ পরিবেশন করে সচেতন দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার কোনো অপচেষ্টাই সফল হবে না। এ দেশের সচেতন জনগণ এহেন অপপ্রচারে কর্ণপাত করবে না। আমরা আশা করি তারা জনগণকে বিভ্রান্ত না করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করবেন।”