কামাল উদ্দিন সুমন

নিয়মিত বিল দেয়া, নিয়ম মেনে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়াসহ সব বিধি বিধান মেনে চলার পরও বিদ্যুৎ পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে প্রায় ৩ কোটি ৭৭ লাখ গ্রাহক। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া তো দুরের কথা ঘন্টার পর ঘন্টা লোড শেডিংয়ের কবলে থাকতে হয়। কি দিন কি রাত এমন কি মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ পায়না অনেক গ্রাহক। অসহনীয় ভোগান্তিতে দিন রাত পার করলেও এসব গ্রাহকের উপরই আবার চেপে বসে ভুতুড়ে বিলের ভোগান্তি। বিদ্যুত না পেয়ে ফুসে উঠে গ্রামাঞ্চালের মানুষ। অনেক স্থানে বিক্ষোভ মানবন্ধন ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে।

সূত্র মতে, দেশে মোট বিদ্যুতের গ্রাহক ৪ কোটি ৯৭ লাখের কাছাকাছি। এর মধ্যে ৩ কোটি ৭৭ লাখ গ্রাহক আরইবির। সারা দেশে ৮০টি সমিতির মাধ্যমে এসব গ্রাহককে বিদ্যুৎ বিতরণ করে আরইবি। উৎপাদন ঘাটতি ও বিতরণ বৈষম্যের কারণে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং বেশি হয়। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিলে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো শহরাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ রাখতে গ্রামাঞ্চলের ফিডারগুলোতে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ বা সীমিত রাখে। এছাড়া জ্বালানি সংকট, কেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের স্বল্পতা এবং উচ্চ চাহিদার কারণে গ্রামাঞ্চলে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

জানা গেছে, বৈষম্যমূলক বিদ্যুৎ বণ্টন, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের মোট ঘাটতির প্রায় সিংহভাগই গ্রামাঞ্চলে স্থানান্তর করা হয়। শহর এবং বাণিজ্যিক এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (ইজঊই) আওতাধীন এলাকায় তুলনামূলক দীর্ঘ সময় লোডশেডিং করা হয়। এছাড়া কয়লা, গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলের আমদানিতে ঘাটতি থাকার কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে পুরো সক্ষমতায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

সূত্র মতে, দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে দুঃখজনক বৈপরীত্য লক্ষ করা যাচ্ছে। একদিকে নীতিনির্ধারকরা দাবি করছেন– লোডশেডিং নেই বললেই চলে। অন্যদিকে গণমাধ্যমের সচিত্র প্রতিবেদন বলছে ভিন্ন কথা। বর্তমানে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লোডশেডিংয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ‘অস্বীকারের সংস্কৃতি’ এবং শহর-গ্রামের মধ্যকার প্রকট বিদ্যুৎ-বৈষম্য আগাগোড়াই অন্যায্য। এটি রাষ্ট্রের সুষম উন্নয়নের অন্তরায়ও বটে। গ্রামে লোডশেডিংয়ের পেছনে রয়েছে বহুমুখী ব্যর্থতা। পিডিবির প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার বকেয়া এবং জ্বালানি সংকটে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারছে না। বাঁশখালী, রামপাল ও বড়পুকুরিয়ার মতো কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বিঘিœত হওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তার পুরোটা চাপানো হচ্ছে গ্রামীণ গ্রাহকদের ওপর।

সূত্র জানায়, সংকটের আড়ালে আছে গভীর কাঠামোগত শোষণ ও বৈষম্য। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) মধ্যকার দ্বৈত শাসনব্যবস্থা এই খাতে অস্থিরতা তৈরি করেছে। আরইবি তদারকি ও কেনাকাটার দায়িত্বে থাকলেও মাঠ পর্যায়ে সরাসরি সেবা দেয় সমিতিগুলো।

অভিযোগ রয়েছে, আরইবির সরবরাহ করা নি¤œমানের সরঞ্জাম ও ত্রুটিপূর্ণ নকশার কারণে ৬৮ শতাংশ বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। অথচ গ্রাহক যখন ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নামেন, তখন বলির পাঁঠা হন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাধারণ কর্মীরা। এদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি লাইনম্যান প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা কিংবা ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে কিন্তু রাষ্ট্রের মাথাব্যথা নেই। এই বৈষম্যের প্রতিবাদে এবং আরইবি-পিবিএস একীভূতকরণের দাবিতে পল্লী বিদ্যুতের ৪৬ হাজার কর্মী অভিনব প্রতিবাদ শুরু করেছেন। প্রতিদিন এক ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজ করে তাঁরা জাতীয় উৎপাদনে অবদান রাখছেন। একই সঙ্গে নিজেদের অধিকারের দাবিও জানাচ্ছেন।

জুনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তদন্তের নির্দেশ মন্ত্রণালয়ের

অন্যান্য মাসের তুলনায় জুন মাসে গ্রাহকদের অস্বাভাবিকভাবে বেশি বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে দেশের সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বিল সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থা কিংবা নির্ধারিত হটলাইনে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহক পর্যায় থেকে অন্যান্য মাসের তুলনায় জুন ২০২৬ মাসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পাওয়ার অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে গ্রাহক হয়রানি কমানোর লক্ষ্যে অতিরিক্ত বিলের কারণ যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো গ্রাহকের বিলে অসংগতি বা অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির পুরো প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ অথবা নির্ধারিত হটলাইনে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় সেবা হটলাইন ১৬৯৯৯ এ অভিযোগ জানানো যাবে। এছাড়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কল সেন্টার ১৬২০০, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (পবিবো) ১৬৮৯৯, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)-এর ১৬১১৬, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)-এর ১৬১২০, নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর ১৬৬০৩ এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)-এর ১৬১১৭ নম্বরে অভিযোগ করা যাবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অতিরিক্ত বিলের অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমানো এবং বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুতের সংস্কার কেন ২০ বছর আটকে আছে

পল্লী বিদ্যুতের সংস্কার করতে কোনো সাংবিধানিক বা আইনি জটিলতা নেই। এরপরও কেন তা এত বছর আটকে আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ¦ালানি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের মোট সরবরাহ করা বিদ্যুতের ৫৭ শতাংশ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুৎ। পল্লী বিদ্যুৎ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে, বিশেষ করে শিল্প, কৃষিসহ অন্যান্য সেবা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ২০ বছর ধরে সংস্কার নিয়ে আলোচনা চলছে, অথচ এখনো আলোর মুখ দেখেনি। এভাবে প্রাতিষ্ঠানিক জড়তার (লক-ইন) একটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পল্লী বিদ্যুতের সংস্কারের প্রশ্নটি।

পল্লী বিদ্যুতের দ্বৈত ব্যবস্থার সংকট

২০২০ সালে আরইবিতে বিদ্যুৎ–বিভ্রাটসংক্রান্ত একটি কর্মশালার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উৎপাদনঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও শুধু পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নি¤œমানের মালামালের কারণে শতকরা ৬৮% বিদ্যুৎ–বিভ্রাট ঘটে। আরইবি আবহাওয়া বা ভৌগোলিক অবস্থার কথা বিবেচনা না করে একই ‘ডিজাইন ক্রাইটেরিয়া’ ব্যবহার করে সারা দেশে বিতরণব্যবস্থা সম্প্রসারণ করেছে।

পঞ্চগড় ও বরিশালের বিতরণ লাইনের খুঁটির গভীরতা একই হওয়া উচিত কি না, সংস্থাটি তা বিবেচনায় নেয়নি। স্বাভাবিক কা-জ্ঞান থেকে বোঝা যায়, লবণাক্ত এলাকা ও স্বাভাবিক এলাকার গ্রাউন্ডিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে আলাদা গ্রেডের মালামাল ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু আরইবি সারা দেশে একই ‘ডিজাইন ক্রাইটেরিয়া’ ব্যবহার করায় অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোকে মালামাল কিনতে হয় আরইবি থেকে। নীতি প্রণয়নসহ সমিতির জনবলের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, বেতন-ভাতা, তদন্ত-শাস্তিÍএ সবই আরইবির সিদ্ধান্তক্রমে বাস্তবায়িত হয়। যে আরইবি এই সিস্টেমের নীতিনির্ধারণ, মালামাল সরবরাহ, গুণগত মান যাচাইসহ সবকিছু করে, তাদের জবাবদিহির জন্য পাওয়া যায় না। অথচ কোনো দুর্ঘটনা বা ত্রুটি হলে আরইবিই আবার তদন্ত করে। তখন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরই শাস্তি হয়। এরপরও আরইবির দেওয়া ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইন বা মালামাল সরবরাহ বন্ধ হয়নি।

২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের মাধ্যমে বিষয়গুলো প্রথমবারের মতো দেশবাসীর নজরে আসে। বিতরণব্যবস্থায় ব্যবহৃত মালামাল যে নি¤œমানের, সেটি প্রকাশ্যে আনেন খোদ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা–কর্মচারীরা।

তাঁদের অভিযোগ, ঝড়-বৃষ্টি হলে পল্লী বিদ্যুতের লাইন বন্ধ হয়ে যায়, লাইন পুনরুদ্ধারে সময় বেশি লাগে। এ কারণে অনেক সময় গ্রাহকের সঙ্গে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের বচসা হয়। এমনকি পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত বা মারধরের শিকার হতে হয়। কিন্তু দেশের প্রায় ১৪ কোটি মানুষের বিদ্যুৎসেবা যাঁরা নিশ্চিত করছেন, তাঁরা এই যৌক্তিক বিষয়টি সামনে নিয়ে আসায় কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেনি।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, রোববার মধ্যরাতে সারা দেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ২৭৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ১৩ হাজার ৯৯৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হয় বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে ওই সময় সারা দেশে ৩২৮০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। তবে ঢাকা মহানগরীতে কোনো লোডশেডিং হয়নি। ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) চাহিদার ১২৮৪ মেগাওয়াট এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) চাহিদার ১৮২১ মেগাওয়াটের পুরোটাই সরবরাহ করে।

তবে ঢাকা মহানগরীর বাইরে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) চাহিদার ২৮৬৪ মেগাওয়াটের মধ্যে ২৩৯৮ মেগাওয়াট সরবরাহ করতে সক্ষম হয়। ঢাকার আশপাশের পল্লী এলাকাগুলোতে এদিন ৪৬৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। প্রায় একই অবস্থা দেশের বিভাগীয় শহর ও বিভাগগুলোর পল্লী এলাকাগুলোতেও। বিদ্যুৎ বিভাগের রেকর্ড অনুযায়ী চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও রংপুরে বিদ্যুতের চাহিদা, সরবরাহ ও লোডশেডিং পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওইসব শহরে লোডশেডিং হয়েছে পল্লী এলাকার তুলনায় অনেক কম। বিভাগীয় শহরগুলোতে লোডশেডিং হলেও তা ছিল সহনীয় পর্যায়ে। অপরদিকে সারা দেশে আরইবির অধীন এলাকাগুলোর বাসিন্দারা বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, আরইবির তথ্য প্রমাণ করে, লোডশেডিংয়ের তথ্য ঠিক নেই। কেন্দ্রীয়ভাবে চাহিদা কমিয়ে দেখানো হয়, এতে ঘাটতি কম দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়। বাস্তবে লোডশেডিং আরও বেশি। ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বিতরণ কোম্পানি, তাই তাদের তথ্যই সঠিক। তিনি বলেন, সারা দেশে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আরইবি। সংস্থাটিকে কম বিদ্যুৎ দেওয়ার মানেই হলো গ্রামের মানুষকে বঞ্চিত করা। তিনি বলেন,গ্রামের মানুষকে বঞ্চিত করাটা দুর্ভাগ্যজনক। অথচ বছরের পর বছর ধরে এটি হয়ে আসছে। সমতাভিত্তিক লোডশেডিং হলে তা সবার জন্যই সহনীয় হতো।