শান্তি চুক্তির শর্তাবলি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযান তেহরানকে এই নৌপথ খুলে দিতে বাধ্য করতে পারবে না।

ইরানের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় চালুর জন্য মূলত তিনটি শর্ত দেওয়া হয়েছে:

শান্তি চুক্তির শর্তাবলি: গত জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উভয় দেশের মধ্যে সম্পাদিত কাঠামোগত শান্তি চুক্তির শর্তগুলো ওয়াশিংটনকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

বৈরী আচরণ বন্ধ: ইরানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন সব ধরনের শত্রুতামূলক ও সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

ইরানি নীতিমালা মেনে চলা: হরমুজ প্রণালি পরিচালনার ক্ষেত্রে তেহরান নির্ধারিত নিয়ম ও বিধিমালা যুক্তরাষ্ট্রকে নিঃশর্তভাবে মেনে নিতে হবে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে দফায় দফায় বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের জেরে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম এই প্রধান নৌপথে অস্থিতিশীলতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মতো দেশগুলো এই যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে পরোক্ষভাবে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত জোরপূর্বক চাপিয়ে দিতে পারবে না।