ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর কাছে ভালো কিছু আশা করার নেই। কারণ, ভালো কিছু করার জন্য যে সক্ষমতার প্রয়োজন, তা ওই দুই নেতার মধ্যে নেই। এ প্রসঙ্গে অনেক বিষয়ের অবতারণা করা যায়। প্রথমত, নেতা হলেও ওদের চিন্তাচেতনায় ন্যায়পরায়ণতা নেই, মানবিকতা নেই। এসব থাকলে তো ওরা সবাইকে নিয়ে বাঁচতে চাইতো। এর বিপরীতে ওরা দানব হয়ে দুর্বলদের দাস বানাতে চাইছে। মানুষের মানবাধিকার ও স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চাইছে। পৃথবীকে বহুবার ধ্বংস করার মত পারমাণাবিক অস্ত্র মজুদ করলেও, ইরানকে আত্মরক্ষা করার মতো প্রয়োজনীয় অস্ত্রের অধিকার দিতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এমন আগ্রাসী লক্ষ্যে ওরা জোট বেঁধেছে, বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। ওরা ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে, বোমা বর্ষণ করেছে। অসম এই যুদ্ধে ইরান থমকে যায়নি, পাল্টা জবাব দিয়েছে। আত্মরক্ষার ন্যায়যুদ্ধে বিশ্ববাসীর সমর্থন পেয়েছে ইরান। সামরিক ও নৈতিক দিক থেকে ইমেজ সংকটে পড়েছেন ডানাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু। সামনে আবার নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে ভাবতে হচ্ছে দুই নেতাকে। এখানে স্বার্থের বিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে বন্ধুত্বে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ফাটল। ন্যায় ও নীতিহীন বন্ধুত্বে চিড় ধরা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এখন বিপরীত পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। মার্কিন সংবাদ অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন-যুদ্ধবিরতির জন্য চুক্তি ‘অনুমোদন’ করছে তেহরান। তাই গত বৃহস্পতিবার ইরানের ওপর তার পূর্বপরিকল্পিত হামলা বাতিলের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ বিষটিতে ‘বিস্মিত’ হয়েছিলেন নেতানিয়াহু। অ্যাক্সিওয়েসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাধ্যকার আলোচনার বিষয়ে ইসরাইলি নেতা একেবারে অন্ধকারে ছিলেন। তবে তথ্য সংগ্রহের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছেন। একযোগে ইরানে আগ্রাসন শুরু করা দুই ‘বন্ধুর’ মধ্যে এই টানাপোড়েনের খবর এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থ দুই দিকে মোড় নিয়েছে। আগামী নবেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার তীব্র চাপের মুখে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চান। অন্যদিকে চলতি বছরেই নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া নেতানিয়াহু যুদ্ধ শুরুর সময় ঘোষিত লক্ষ্যগুলো অর্জনের চাপে রয়েছেন। এসব চাপ উভয়ের পথ আলাদা করে দিচ্ছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, আলোচনা ও চুক্তির বিষয়গুলো সব পক্ষ অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে-যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান, মিসর এবং অন্যরা। অ্যাক্সিওয়েসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া চূড়ান্ত করার আগে ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধামন্ত্রী নেতানিয়াহু, কাতারের আমির তামিম আল-থানি এবং অঞ্চলের অন্যান্য নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এরপরই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রদত্ত বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই ‘বোঝাপড়া স্মারকে’ তেলআবিব কোনো পক্ষ নয়। উল্লেখ্য, নিজের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় নেতানিয়াহু বারবার দেখিয়েছেন, তিনি ট্রাম্পকে অমান্য করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন করে উত্তপ্ত করার ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। এমন উদাহরণ লক্ষ্য করা গেছে গত সপ্তাহেরওÑযখন ট্রাম্পের বারন সত্ত্বেও নেতানিয়াহু ইরানে হামলার নির্দেশ দেন। এমন আচরণের কারণে, ইসরাইলের নেতার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে থাকেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কখনো কখনো তা জনসমক্ষেও চলে আসে। যেমন লেবাননে ইসরাইলের হামলা বৃদ্ধির কারণে নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। উত্তপ্ত সেই ফোনালাফ চলে আসে জনসমক্ষে। স্বার্থের দ্বন্দ্বে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বন্ধুত্বের চিড় ধরার খবর তো আমরা পেলাম। এখন দেখার বিষয় হলো, এর পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। আগামী নির্বাচনের ফলাফল এই দুই নেতার জন্য সুখকর নাও হতে পারে।