ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় মরহুম নেতার তিন ছেলে অংশ নিলেও, নিরাপত্তাজনিত চরম সতর্কতার কারণে উপস্থিত হতে পারেননি বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
জানাজার পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে আলী খামেনির বাকি তিন ছেলেকে পিতার কফিনের পাশে আবেগঘন ও শোকাতুর অবস্থায় অবস্থান করতে দেখা যায়। তারা সম্মুখ সারিতে থেকে জানাজার নামাজে নেতৃত্বদানকারীদের সাথে শামিল হন এবং উপস্থিত লাখো শোকার্ত জনতার সাথে মিলে পিতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। খামেনি পরিবারের এই তিন সন্তানের কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্যটি উপস্থিত সবার মাঝে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
তবে জানাজায় সবার নজর ছিল আলী খামেনির দ্বিতীয় পুত্র এবং ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির দিকে। চরম নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার কারণে তিনি এই রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় প্রকাশ্যে অংশ নেননি। সম্প্রতি পিতার মৃত্যুর পর ইরানের শাসনক্ষমতার শীর্ষ পদে স্থলাভিষিক্ত হওয়া মোজতবা খামেনির নিরাপত্তা নিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহল কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি।
প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তাল ভূরাজনীতি এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীল পরিস্থিতির কারণেই নতুন নেতার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিন ভাইয়ের প্রকাশ্য উপস্থিতি যেখানে পরিবারের শোক ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে সামনে এসেছে, সেখানে মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি দেশটির বর্তমান নিরাপত্তা সংকটের গভীরতাকে আরও একবার মনে করিয়ে দিচ্ছে।
পিতার জানাজায় নতুন সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিলেও, তিন ছেলের কফিনের পাশে অবস্থান করা এবং জানাজায় অংশ নেওয়ার ঘটনাটি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বেশ গুরুত্বের সাথে প্রচার করা হচ্ছে।
এদিকে, আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজার নামাজ রবিবার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির অন্যতম শীর্ষ আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানীর ইমামতিতে অনুষ্ঠিত এ জানাজায় ইরানের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো শোকাহত মানুষ অংশ নেন।
বিপুল জনসমাগমের কারণে জানাজার নামাজ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই গ্র্যান্ড মোসাল্লার মূল নামাজকক্ষ পূর্ণ হয়ে যায়। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে কমপ্লেক্সের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। নামাজকক্ষের বাইরের সড়ক ও আশপাশের এলাকাও খামেনেইকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
জানাজার নামাজ তিনটি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্যায়টি ছিল আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনির জন্য। দ্বিতীয় পর্যায়ে শহীদ সাইয়েদেহ বোশরা হোসেইনি খামেনেই, শহীদ মেসবাহ আল-হোদা বাকেরি এবং শহীদ জাহরা হাদ্দাদ আদেলকে স্মরণ করা হয়। তৃতীয় পর্যায়টি উৎসর্গ করা হয় শহীদ নেতার নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানির জন্য।
খামেনির শাহাদাতের পর শনিবার ভোরে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনুষ্ঠানিক বিদায় কর্মসূচি শুরু হয়। দুই দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হন।