যুদ্ধাপরাধী ও যুদ্ধবাজ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মানসিক সুস্থতা সম্পর্কে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, কোনো সুস্থ মানুষ কি এমন নৃশংসভাবে কোনো জনপদ ধ্বংস করতে পারে? ‘গাজা’ ইসরাইলের জন্য চিরকালীন এক বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর একটি প্রশ্ন হলো, নেতানিয়াহু কি যুদ্ধ উন্মাদনায় তার নিজ দেশের নাগরিকদের ভালোমন্দের বিষয়টিও ভুলে গেছেন? উল্লেখ্য, গাজায় ইসরাইলের চলমান গণহত্যা এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধে ক্রমবর্ধমান মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়েছে ইসরাইলিদের ওপরও। যুদ্ধ তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ভিন্ন রূপ দিয়েছে, যা তাদের মনোজগতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মানসিক এ ক্ষত কাটিয়ে উঠতে মাদকের আশ্রয় নিচ্ছেন তারা। প্রতি চারজন ইসরাইলির মধ্যে একজন এখন ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য ব্যবহারে লিপ্ত। একটি গবেষণার বরাতে ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

ইসরাইলি সেন্টার ফর অ্যাডিকশন অ্যান্ড মেন্টাল হেলথ জানিয়েছে, হামাস নেতৃত্বাধীন হামলার পর ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইল গাজায় যুদ্ধ শুরু করলে, তখন থেকে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। করোনা ভাইরাস মহামারির আগে এ হার ছিল প্রতি ১০ জন ইসরাইলির মধ্যে একজন। মহামারির সময় এটি বেড়ে প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন হয়? আবার ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর তা প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য ব্যবহারের মধ্যে ঘুমের ওষধের পরিমাণ বেড়েছে আড়াই গুণ। এছাড়া আফিম জাতীয় ও উত্তেজক পদার্থের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। পাশাপাশি বেড়েছে অ্যালকোহল এবং গাজার ব্যবহারও। পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মাদকদ্রব্য ব্যবহারের হার ৫৪ দশমিক ২ শতাংশ।

ইসরাইলি সেন্টার ফর অ্যাডিকশন অ্যান্ড মেন্টাল হেলথের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক শাউলি লেভ-র‌্যান ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজকে বলেছেন, বারবার তৈরি হওয়া সংকট মানুষকে মানসিকভাবে চাপের মুখে ফেলে। ফলে এসব মাদকের মতো অভ্যাসগুলো তাদের মাঝে স্থায়ী রূপ নেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন মানসিক চাপ যত বাড়ে, মানুষের মধ্যে তত বেশি মাদকের ব্যবহার বাড়ে। কিন্তু সমস্যা হলো, এ মানসিক চাপ কমলেও তাদের মাঝে এর ব্যবহার কমানোর প্রবণতা দেখা যায় না।

অধ্যাপক শাউলিতো যুদ্ধ সংকটের কথা বললেন, মানুষের মানসিক চাপের কথা বললেন এবং বললেন যুদ্ধের ভয়াবহতায় মাদকের প্রতি ইসরাইলিদের আসক্তি বাড়ার কথা। দেশের নেতা হিসেবে এসব বিষয়ে তো বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আরো গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন। কিন্তু তেমন লক্ষণ তো দেখা যাচ্ছে না। বরং সামনের নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি যুদ্ধের মাত্রা আরো বাড়াতে চাইছেন। তার বিবেচনায় যুদ্ধ নির্বাচনে বিজয়ে সাহায্য করবে। জনস্বার্থের বদলে ক্ষমতাই কি তার জন্য বড় হয়ে উঠলো?